শাহ লালন সাঁই
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি: বিবিসি বাংলার জরিপে ১২ নম্বরে বাউল সাধক ফকির লালন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি: বিবিসি বাংলার জরিপে ১২ নম্বরে বাউল সাধক ফকির লালন।
শাহলালন সাঁই : ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার।
লালনের লোকধর্ম।
মানুষ যখন নিজেই ধর্ম তৈরি করে তাকেই বলে লোকধর্ম–লোকধর্মের গল্প অনেক আছে। লোকধর্ম মানুষের একটা আশ্রয়, বাঁচবার একটা প্রতীক। হিন্দু যাকে স্থান দেয়নি, মুসলমান যাকে স্থান দেয়নি, খ্রিস্টান যাকে স্থান দেয়নি, সে বাঁচবে কী নিয়ে? সে ‘মানুষ’ নিয়ে বাঁচবে এবং সেই বাঁচার নামই হচ্ছে মানব ধর্ম। বাঁচার জন্য লোকায়ত জীবন। লালন হচ্ছেন সেই লোকায়ত জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতীক,দিনে দিনে লালনের মতাদর্শের সংখ্যা বাড়ছে।ধারনা করা হয় ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেছিলেন। তার সহজ-সরল শব্দময় এই গানে মানবজীবনের রহস্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।এগুলো সংরক্ষন করা দরকার।
আজ সেই ফকির লালন শাহের জন্মদিন। যদিও এই বাউল সাধকের জন্ম বাংলাদেশের কোথায় হয়েছিল তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। লালন নিজে কখনো তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায়, লালন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আবার কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সঙ্গেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়।
এক সূত্র থেকে জানা যায়, লালনের পিতার নাম কাজী দরীবুল্লাহ্ দেওয়ান। পিতামহের নাম কাজী গোলাম কাদির ও মাতার নাম আমিনা খাতুন। কাজী তাদের বংশগত উপাধি। গবেষকদের ধারণা, লালন শাহের আরও দুই ভাই ছিলেন। আলম শাহ্ ও কলম শাহ্। আলম শাহ্ কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
আরেক তথ্য থেকে জানা যায়, লালনরা চার ভাই- আলম শাহ্, কলম শাহ্, চলম শাহ্ ও লালন শাহ্। চলম শাহ নামে ভাই ছিল না বলে মনে করা হলেও মলম শাহ্ নামে আরেক ভাই ছিলেন। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে আলম ও মলম মৃত্যুমুখে পতিত হন। লালন ফকির জীবিকার জন্য হরিশপুরের দক্ষিণ পাড়ার ইনু কাজীর বাড়ি আশ্রয় নেন।
Akhi Malek

Please share your comment: