পদ্মা সেতু দুর্নীতি
১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৩ জনের নামে মামলা
বুধবার (৫ মার্চ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য জানান
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটকসহ ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি ও অন্যান্য মালিকানাধীন সম্পত্তির ভুয়া রেকর্ড তৈরির মাধ্যমে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) দুদকের মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য জানান।
ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্মাণকাজে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত দরপত্রের অন্যতম দরদাতা এসএনসি লাভালিন ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরে তদন্ত শেষে ২০১৪ সালে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়। ওই মামলা পুনঃপর্যালোচনা করে কমিশন মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানার (মামলা নং ১৯) মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়। সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেইন ভূঁইয়া, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় তদন্ত শেষে কমিশন ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেয়। যা ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত গ্রহণ করে। দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি টিম এই মামলাটি তদন্ত করে।
পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলার এজাহারে সন্দেহভাজনের তালিকায় ছিলেন প্রয়াত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও প্রাক্তন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারাও এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। তদন্তকালে বাংলাদেশে ও কানাডায় গিয়ে দুদকের তদন্ত দল তথ্য অনুসন্ধান করেছিল।
Akhi Malek

Please share your comment: