ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু

বাড়ছে শিশু মৃত্যুহার

Published: 08 October 2024 11:10

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বিশেষায়িত শিশু রোগের জন্য এ হাসপাতালটিতে একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত শিশুদের এই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বিশেষায়িত শিশু রোগের জন্য এ হাসপাতালটিতে একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত শিশুদের এই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সেই সেবা কাঙ্খিত নয়।


এই ওয়ার্ডের ৩৩ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রোগীদের সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রোগীদের সকল ধরনের ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে হয় । কিন্তু প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার টেন্ডার হচ্ছে রোগীর জন্য ঔষধ সরবরাহে। হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেই ডাক্তার নার্স এরা রোগীকে সিøপ ধরিয়ে দেন ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনার জন্য এতে করে অনেক সময় রোগীর স্বজনরা প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের আশে-পাশে যতগুলো ঔষধ এর দোকান রয়েছে সেখানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ঔষধ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরে সারাদেশে এ পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৫৯০ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৬ জনে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর হারও। শিশু হাসপাতালের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, এবার ডেঙ্গু রোগে বিগত ৫ বছরের মধ্যে শিশু আক্রান্তের হার কম থাকলেও মৃত্যুহার বেশি। এবার মোট ২৯৬ জন শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৫ জন। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা গত ৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে মোট ১ হাজার ৪৫০ জন শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। সে বছর মারা যায় ১৮ জন শিশু, মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২০ সালে মাত্র ৯৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় এবং মারা যায় ১ জন। মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০২১ সালে মোট ১ হাজার ১০৭ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয় এবং মারা যায় ১৭ জন। ফলে সে বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।


এবার ডেঙ্গু রোগে শিশু আক্রান্ত কম হলেও মৃত্যু হার কিন্তু বেশি। হাসপাতালে বিশেষায়িত ডেঙ্গু কর্নার খুলেছি। সেখানে গত তিন মাসে ২৯৬ জন শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে ৫জন শিশু মারা গেছে। ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে শিশু মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মোট ১ হাজার ২৫২ জন শিশুর মধ্যে মারা যায় ২২ জন শিশু। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশু হাসপাতালে মারা যায় ২৩ জন শিশু। চিকিৎসা নেয় মোট ২ হাজার ৩৩ জন শিশু। মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ১৩ শতাংশ।


‘এবার ডেঙ্গু রোগে শিশু আক্রান্ত কম হলেও মৃত্যুহার কিন্তু বেশি। হাসপাতালে বিশেষায়িত ডেঙ্গু কর্নার খুলেছি। সেখানে গত তিন মাসে ২৯৬ জন শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে ৫জন শিশু মারা গেছে। বর্তমানে ৩৭ জনশিশুকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছি।সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে শুরু হয় ২০০০ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছরই বাড়ছে আক্রান্ত।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৯ মাসের মধ্যে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা ৯ মাসের মোট মৃত্যুর প্রায় ৫০ শতাংশ। এ অবস্থায় অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

Akhi Malek

Please share your comment:

Related