পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

একই চেয়ারে ৩২ বছর ক্ষমতার উৎস কোথায়?

Published: 30 March 2024 17:03

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চাকুরী বিধিমালা যাই থাকুক না কেন তার তোয়াক্কা করছে না অধিদপ্তরের এমসিএইচ বিভাগের হিসাব শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন।উক্ত শাখার র পরিচালক ও উপ-পরিচালক পদে কয়েক বছর পরপর কর্মকর্তাদের বদলী হলেও এ ক্ষে

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চাকুরী বিধিমালা যাই থাকুক না কেন তার তোয়াক্কা করছে না অধিদপ্তরের এমসিএইচ বিভাগের হিসাব শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন।উক্ত শাখার র পরিচালক ও উপ-পরিচালক পদে কয়েক বছর পরপর কর্মকর্তাদের বদলী হলেও এ ক্ষেত্রে হিসেব শাখার কর্মকর্তারা ব্যতিক্রম । সর্বোচ্চ ৩১/৩২ বছর পর্যন্ত একই চেয়ারে বসে পার করে দিচ্ছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসন ও এমসিএইচ বিভাগের পরিচালক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও কি এমন রহস্য বা অতিরিক্ত যোগ্যতা লুকিয়ে রয়েছে উক্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে তাদের কোন ভাবেই বদলী করা যাচ্ছে না বা করা হচ্ছে না।

যে সমস্ত কর্মকর্তারা ২৫-৩২ বছর যাবৎ অধিদপ্তরে ঘুরে ফিরে বিভিন্ন টেবিলে তাহারা অধিদপ্তরকে নিজস্ব পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে। এদের দুর্নীতির শিকড় এতো গভীর যে পরিবারের ১৫-২০ জন সদস্য পর্যন্ত অধিদপ্তর এর বিভিন্ন পদে কর্মরত। শুধু তাই নয় এদের সিন্ডিকেটের শতাধিক লোকের চাকুরী দেওয়ার তথ্য ও পাওয়া গেছে।

সিসিএসডিপি হিসাব রক্ষক শহীদ। বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তার ভাই নাজমুল ড্রাইভার পদে কর্মরত। নাজমুলের স্ত্রী অধিদপ্তরে চাকুরী করে সংযুক্ত রয়েছে সিরাজগঞ্জে। এক বোন টিএফপি তে চাকুরী করে তার বোন জামাই ও টিএফপিতে কর্মরত। শহীদ ২৭ বছর যাবৎ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে। বিভিন্ন সূত্র বলছে এ পর্যন্ত শহীদ ও নাজমুল মিলে শতাধিক লোককে চাকুরী দিয়েছে সাবেক পরিচালক মাহবুব সাহেবের সময়। প্রতিজন লোকের নিকট থেকে ৫-৭ লাখ করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাজমুল প্রশাসনের গাড়ি চালায় তাই তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেনা।

এমসিএইচ এর হিসাব রক্ষক রেজা, বাড়ি সিরাজগঞ্জ । তিনি মূলত: অফিস সহকারী। দায়িত্ব পালন করেন হিসাবরক্ষক। একই পদে ৩২/৩৩ বছর। শ্যালক/শ্যালিকা সহ প্রায় ১০ জনকে অধিদপ্তরের চাকুরী দিয়েছে।

এমসিএইচ এর হিসাব রক্ষক আ: রহমান । বাড়ি সিরাজগঞ্জ ৩২ বছর যাবৎ প্রধান কার্যালয়ে। তিনি কর অঞ্চল-৪ এর ট্যাক্স হোল্ডার। আয়কর রিটার্নে স্ত্রী ও নিজের নামে লাখ লাখ টাকা রিটার্ন দেখানো আছে। তিনি ডিপি হোল্ডার প্রজেক্টে কাজ করেন। বিপুল অংকের অর্থ বৃত্তের মালিক। রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট।

এমসিএইচ এর অর্থ কর্মকর্তা নূর নবী। বাড়ী নোয়াখালী ।একই পদে ৩২ বছর। অধিদপ্তরেরই তার পোস্টিং। তিনি স্যাটেলাইট ক্লিনিক এর বাজেট বরাদ্দ শাখায় কর্মরত থাকা কালীন সময়ে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক। তথ্যসূত্র বলছে উত্তরাতে নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। মূলত যশোর, নড়াইল, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, সিলেট এরিয়ায় অর্থ বরাদ্দ দেয়াই ছিল তার মূল কাজ। চাহিদা ব্যতীত বরাদ্দ প্রদান করে সুবিধা হাসিল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমআইএস ডিভিশনের মোঃ ফারুক হোসেন। স্টোর কিপার এর দায়িত্বে। তার স্ত্রী দোলাইপাড়ে পরিদর্শিকা পদে কর্মরত। শালিকা রাজিয়া ইউপিএ ডিসিপ্লিন শাখার উচ্চমান সহকারী।২০ জনের ও অধিক লোককে চাকুরী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইইএম ষ্টোরে ইনচার্জ থাকা কালীন অবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে শাস্তি স্বরূপ এমআইএস বিভাগে বদলী করা হয়।

অতি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ ও দাপুটে অনেক কর্মকর্তাকে ঢাকার বাহিরে বদলী করার পর পুরো অধিদপ্তর জুড়ে বঞ্চিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দেরীতে হলেও দাপুটে ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বদলী প্রশাসনে সুশাসনের ইঙ্গিঁত বহন করে। বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দপ্তর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ চক্র অধিক শক্তি সঞ্চার করে তা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত: টেন্ডার ও কেনাকাটার সাথে সম্পৃক্ত সিন্ডিকেটই অধিকতর শক্তিশালী।

তার সাথে যুক্ত রয়েছে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র। যাদের দেশব্যাপী রয়েছে নেটওয়ার্ক। অতি সম্প্রতি একটা পদোন্নতিতে দেখা গেছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষমতার প্রভাবের কারনে সিরিয়াল ভঙ্গ করে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদোন্নতি প্রাপ্তির পেছনের তালিকার কর্মকর্তা কে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। যা নিয়ে সারা দেশের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্তম্বিত। ক্ষমতা পেয়েই টেন্ডার কেনাকাটায় নিজের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করেছে। এ নিয়ে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের কর্মকর্তারা। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটা বন্ধ হয়ে যাওয়া হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। ইতোমধ্যে সারাদেশে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পরিবার পরিকল্পনাকে ঢেলে সাজাতে হলে দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের ব্যাপারে মন্ত্রনালয়কে কঠোর হতে হবে। দুই এক জন ক্ষমতাধর ব্যক্তিই পুরো অধিদপ্তরের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। একটা বিষয় সকলকে মনে রাখতে হবে সরকারের কাছে দু’একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অপরিহার্য নয়।

“দ্য ফিন্যান্স টুডে” ধারাবাহিক অনুসন্ধানে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দু:শাসন ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসায় প্রতিদিন সারাদেশ থেকে তথ্য উপাত্ত আসছে।

পরবর্তীতে প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের অবৈধ ভাবে অর্জিত সম্পদের বিবরনী প্রকাশিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নেই স্বাস্থ্য খাত সুশাসন ফিরে আসার পথ সুগম হবে।

Akhi Malek

Please share your comment:

Related